চলে যাচ্ছি তোমার গ্রাম ছেড়ে
শহরে—
যেখানে অসভ্য মেয়েরা
সভ্যতায় সুখ ঢেলে দেয়।
ক্লান্ত জীবনকে শান্ত
এবং শান্ত শরীরকে
ক্লান্ত করে তোলে।
পিছনে ফেলে যাচ্ছি
কাঁচা রাস্তার ধুলো,
ভোরবেলার শিউলি ঝরা উঠোন,
আর তোমার ডাকে জেগে ওঠা সকাল।
খড়ের গন্ধমাখা বাতাস
আমার চুলে হাত বুলিয়ে বলে—
“ফিরে এসো।”
তবু আমি হাঁটি,
পা বাড়াই অচেনা পথে,
লোহার রেলের শব্দে
হৃদয় কেঁপে ওঠে বারবার।
শহরের আলো দূর থেকে
চোখে আগুন ধরায়,
নিয়নের রঙিন স্বপ্ন
আমাকে টানে অজানা দিকে।
এখানে কেউ কারো নয়,
তবু সবাই খুব ব্যস্ত,
হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকে
অসংখ্য ক্লান্তি।
উঁচু দালানের ফাঁকে
আকাশটাও ছোট হয়ে যায়,
শ্বাস নিতে গেলে মনে হয়
কেউ বুক চেপে ধরেছে।
প্রিয়তম,
আমি তোমাকে ভুলতে চাই,
ক্ষনিকের জন্য—
কারণ তোমার স্মৃতি
আমাকে দুর্বল করে দেয়,
তোমার চোখের ভেজা আলো
আমাকে ফের গ্রামে টেনে নেয়।
আমি ভুলতে চাই
তোমার কাঁধে মাথা রাখা বিকেল,
নদীর ধারে বসে থাকা নীরবতা,
আর অকারণে হাত ধরা সেই মুহূর্ত।
নয়তো মনে হয়
ভুলে যাব চিরতরে—
তখন হয়তো শহরের ভিড়ে
আমি আর আমি থাকব না,
নামহীন কোনো ছায়া হয়ে
হেঁটে বেড়াব রাস্তায় রাস্তায়।
ক্লান্ত শরীর নিয়ে ফিরব ঘরে,
অচেনা বিছানায় ঘুম ভাঙবে,
স্বপ্নে শুধু শুনব
তোমার ডাক— দূর থেকে।
হয়তো একদিন
হঠাৎ বৃষ্টির রাতে
সব স্মৃতি ঝড় হয়ে নামবে,
আমি কাঁদব নিঃশব্দে।
তখন বুঝব—
গ্রাম ছেড়ে যাওয়া যায়,
কিন্তু ভালোবাসা ছেড়ে যাওয়া যায় না।
তুমি রয়ে যাবে
মাটির গন্ধে,
শিউলি ফুলের সাদা পাপড়িতে,
আমার প্রতিটি শ্বাসে।
তবু আমি চলেই যাচ্ছি,
কারণ জীবন থেমে থাকে না,
স্বপ্নেরাও পথ বদলায়।
চলে যাচ্ছি তোমার গ্রাম ছেড়ে
শহরে—
তোমাকে বুকের ভেতর লুকিয়ে
এক অদ্ভুত একাকিত্ব নিয়ে।
হয়তো ভুলব,
হয়তো ভুলব না,
তবু এই যাত্রা—
শুধু তোমার থেকেই শুরু,
আর তোমাতেই শেষ।